চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামীকাল অথবা পরশু পবিত্র ঈদ-উল ফিতর। ঈদকে সামনে রেখে শেষ সময়ের প্রয়োজনীয় বাজার সারছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। মাহে রমজানের শুরু থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্থিতিশিল করার ধারাবাহিকতায় ঈদের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ইতোমধ্যে কিছু কিছু পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে অস্বস্তিতে পড়েছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে এলাচ, জিরা, বাদাম ও আলু বোখারার দাম বেশ চড়া।
বিক্রেতারা বলছেন ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। আর এই জ্বালানি তেলের সংকটে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির কারণে মসলার বাজার চড়া। তবে ক্রেতাদের দাবি পূর্বের ধারাবাহিকতায় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে মসলার দাম বাড়িয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আলু বোখারা বর্তমানে প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকায়। অনুরূপভাবে প্রতিকেজি কিসমিস ৮০০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৩৫০ টাকা, এলাচ ৪ হাজার ৪৪৪ টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা, চীনা বাদাম ১৯০ টাকা এবং কাজুবাদম ১ হাজার ৩৮০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
১৫ আগে একই পণ্য বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি আলু বোখারা ৮০০ টাকা, কিসমিস ৬৮০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৩০০ টাকা, এলাচ ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা, চীনা বাদাম ১৭০ টাকা এবং কাজু বাদাম ১ হাজার ৩৪০ টাকায় বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
বড় বাজারেরর ব্যবসায়ী তাজীম হোসেন বলেন, ‘গত ১৫ দিন ধরে গরম মসলার দাম বেড়েছে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, আমরা মূলত গরম মসলা আমদানি করিনা। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা আমদানি করেন। সেখান থেকে প্রতিটি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেন ব্যবসায়ীরা। আমরা সেই দরে বিক্রি করি।’
একই বাজারের বড় ব্যবসায়ী সুজীত কুমার রায় বলেন, ‘এক কাটুন কিসমিসের দাম ১ হাজার টাকা বেড়েছে। বেড়েছে আফগান জিরার দাম। প্রতিকেজি লবঙ্গের মূল্য বেড়েছে ৪০-৫০ টাকা।’
দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, ‘পরিবহন ভাড়া কোথাও কোথাও দ্বিগুণ ও তিনগুণ বেড়েছে। অনেক সময় ট্রাকও প্রয়োজনের বেশি পণ্য বহন করতে চায়না। অতিরিক্ত মাল আনলে ভাড়া আরও বেশি গুণতে হয়। তাছাড়া যুদ্ধের কারণে মাল দেশে আসছেনা। যাদের মসলা সংরক্ষণ করা আছে তারা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছেন।’
ক্রেতা ফাতেমাতুজ্জোহরা বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে গরম মসলার দাম বাড়িয়েছে। দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়েনি। কিছু পরিবহনের ক্ষেত্রে সরকার জ্বালানি তেলের পরিমাণ কমিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে সেটি শিথিল করেছে সরকার। পণ্যের দাম তদারকির জন্য দেশে একটি প্রতিষ্ঠান আছে। তাদের দায়িত্ব নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। দাম বৃদ্ধি করা ব্যবসায়ীদের অসুস্থ মানসিকতা। তিনি সরকারকে বাজার তদারকির জন্য অনুরোধ করেছেন।
খুলনা গেজেট/এনএম

